রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১

দরখাস্ত

 মাননীয় পুলিশ বাড প্রিডেবুর্গ, স্মলেন বার্গ,

বিষয়ঃ  অভিযোগ মামলা, জনাব সামসুর জামান চৌধুরীর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

জনাব, আমি মোহাম্মেদ ফারুক, অখন্ড পুর্ব পাকিস্তানে বর্তমানে বাংলাদেশে  আমার জন্ম হয় ১৯৫৮ সালের পহেলা জানুয়ারি।বাংলাদেশে জন্ম হলেও আমি দীর্ঘদিন পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করা অবস্হায় আমি পাকিস্হানের নাগরিকত্ব গ্রহন করে সেখানের পাসপোর্ট আইডি নিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসা করতে থাকি।খুব ভালোই চলছিল আমার ঠিকাদারি ব্যবসা। এমনাবস্হায় জনাব চৌধুরী তার জার্মানী স্ত্রি গাব্রিলার ছবিসহ চিটি দিয়ে আমাকে জার্মানে আসার প্রস্তাব দেয়।জার্মানে আরো বেশি টাকা ইনকাম করা যাবে বলে আমাকে লোভ দেখায়।বার বার আমাকে ফোন করে এখানে এনে জার্মান নেসানেলিটি লয়ে দেবার প্রস্তাব দেয়।তাতে খরচ হবে সর্বমোট ২৫ হাজার ডলার।তার লোভনিয় প্রস্তাবে আমি জার্মানে আসতে রাজি হই।কথামত আমি তাকে ২৫ হাজার ডলার দিয়ে তুর্কি এবং যুগোস্লাভিকিয়ার জাগ্রিব শহরে ভিসা নিয়ে চলে আসি।সেখান থেকে তার জার্মান স্ত্রি ও তার ছেলে মিশাইল হোটেল ডুর্বনিকের সামনে থেকে আমাকে বাই রোডে কম্বল দিয়ে ডেকে অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানে তার স্টমলেনবার্গের বাসায় নিয়ে আসে।এখানে এনে ্একমাস তার বাসায় বন্দিবস্হায় রাখে।বাসার বাহির হওয়া যাবেনা ফোনে কারো সাথে কথা বলা যাবেনা। সপ্তাহে একদিনের বেশি গোসল করা যাবে না, ইত্যাদি।   একমাস পরে আমাকে তার স্ত্রি কাসেল শহরে আবদুর ছাত্তার নামে তার এক বিজনেস পার্টনারের বাসায় রেখে চলে আসে। আসার সময় সে আমাকে আবার বলে আরো ১৫ হাজার ডলার দিলে সে আমাকে জার্মানী পাসপোর্ট লয়ে দিবে, নতুবা যে কোন সময় পুলিশ আমাকে এরেস্ট করে জেলে দিবে বলে ভয় দেখায়।আমি তার কথায় বিশ্বাস করে  তাকে আরো ১৫ হাজার ডলার দেই। এ ছাড়াও আমার কাছে থাকা আরো পাঁচ হাজার ডলার  আমি গোপনে তার স্ত্রি গাব্রিলার কাছে জমা রাখি।আমি আসার পরেই জনাব চৌধুরী আমার পাকিস্তানী পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড এবং দুইটা রিটার্ন প্লেন টিকেট এবং যুগোশ্লাভিকিয়ার পাঁচশ টাকা  নিয়ে যায়। 

কাসেলে হোপগাইসমারে ছাত্তারের বাসায় আরো দেড়মাস আমি বন্দিবস্হায় থাকি।তখন কি করবো আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।পরে আমি কাসেল থেকে ফ্রান্কপোর্টে সোহেলবাকে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে অস্হায়ি ক্যম্পে উঠি।সেখানে পাঁচ সপ্তাহ থাকার পর আমাকে আইজেনহুটেন স্টাড পাঠানো হয়, সেখানে প্রায় তিন মাস থাকার পর আমাকে টেলটবে একটা হাইমে পাঠানো হয়।এই পাঁচ মাস জনাব চৌধুরীর সাথে আমার শুধু চিটি বিনিময় হয়েছিল।একদিন চৌধুরী তার স্ত্রি গাব্রিলা সহ আমার টেলটবের হাইমে গিয়ে আমাকে তার বাসায় নিয়ে আসে।তার বাসায় এনে সে আমাকে বলে একমাত্র কন্ট্রাক মেরেজের মাধ্যমে জার্মানী নেশানেলিটি নেওয়া সম্ভব।তার কথায় আমি রাজি হলাম। সে আমাকে একটা এজন্টের অফিসে নিয়ে বেশ কয়টা মেয়ের ছবি দেখায় সয়েজ করতে, আমি তিনটা মেয়েকে সয়েজ করে দেখালাম। সে ঐ এজেন্টকে দুহাজার মার্ক দিয়েছিল।তার একটি চুক্তিপত্রও করা হয়েছিল।

তারপর প্রায় একবছর হয়ে গেল, আমি দেখলাম যে জনাব চৌধুরী সত্যিই একজন মাফিয়া, আদম ব্যপারি তার নেশা ও পেশা। সে কয়েক হাজার লোককে জার্মান নিদারল্যান্ড ইতালী ফ্রান্স ও ইউরোপের ভিবিন্ন দেশে পাঠিয়েছে।তার ধোকাবাজি বুঝতে পেরে আমি তাকে অনুরোধ করি আমার সব টাকা ফিরিয়ে দেবার জন্য।  ১৯৯২ সালের নভেম্বর মাসে সে আমাকে বলে তুমি আমার বাসায় এসে টাকা হিসেব করে নিয়ে যাও। তার কথা মত আমি তার বাসায় আসলে সে আমাকে মেরে রক্তাক্ত করে আমার ডান চোখটা নষ্ট করে দেয়ে এবং জবরদস্তি একটা কাগজে এককোটি টাকা এখন প্রায় ১০০,০০০ থাউজেন্ট ইউরো আমি তাকে দেনা মর্মে আমার কাছ থেকে দস্তখত নেয়।

এখন তার বাংলাদেশের ছেলে মেয়ে ও তার লোকজন মাফিয়া চক্র এবং এখানের ছেলেকে নিয়ে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিতেছে। আমি জার্মান সরকারের কাছে জনাব সামসুর জামান চৌধুরী ওরপে নুরুল আমিন মন্টার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক  ব্যবস্হা নিয়ে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।

                                              নিবেদক,

                                    মোহাম্মেদ ফারুক,

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন