সেই ছিল এক মর্মান্তিক দু:র্ঘটনা। সেদিনের সে মুহুর্ত্যের কথা মনে পড়লে এখনো আমার গা শিউরে উঠে।দুচোখে জমে উঠে মোটা মোটা নোনা পানি।মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটে গেল এমন একটি মর্মভেদী দু:র্ঘটনা। ভাবতেও অবাক লাগে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মারিয়া শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করলো।মারিয়া আর এ পৃথিবীতে বেঁচে নেই এ কথা ভাবতেই আমার বড় কষ্ট হয়।বুকটা পেটে যেতে চায়।মারিয়া বেঁচে নেই এই কথা রুঢ় সত্য। কিন্তু এমনি ভাবে চলে যাবে?বিশ্বাস করতে পারছিলাম না সেই মুহুর্ত্যকে।
হায়! আল্লা!আমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রি মারিয়া রিগো দ্যা কোরিয়া আমাকে চেড়ে এমনি ভাবে চিরদিনের মত চলে যাবে?অবিশ্বাস্য!এ কি নিয়তির নিষ্ঠুর খেলার বিশ্ময় কান্ড! এই সুন্দর পৃথিবীর মায়ামমতা চেড়ে,বন্ধু বান্ধব আত্মিয় অনাত্মিয় সকলের স্নেহমায়া ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে এমনি ভাবে মারিয়া চলে যাবে?একথা আমি সেদিনও বিশ্বাস করতে পারিনি, আর আজো পারছিনা।আমার কাছে আজো মনে হয় মারিয়া মরেনি। মারিয়া আজো বেঁচে আছে আমার অন্তর আত্মায়।
সত্যি আজো মাঝেমধ্যে মারিয়া চলে আসে আমার ঘুমের ঘরে স্বপ্নভঙ্গের দু:সময়ে। ঠিক সেদিনের মত চুপি চুপি দরজা পাঁক করে উঁকি মেরে আমাকে চমকে দিয়ে হাস্যোজ্জল মুখে বলে উঠে, বোয়া টার্ডে সিনিওয়ারা,টুত বাঁই? সূভদিন কেমন আছ প্রিয়। দু:সময়ের সেই নিদ্রাভঙ্গ রাতে জেগে উঠে চোখের জল মুচি কিংবা পোঁপায়ে পোঁপায়ে কেঁদে উঠি।কেউ দেখেনা কেউ শুনেনা আমার নি:সঙ্গ জীবনের সেই বোবা কান্না।সেই কান্না আমার একান্ত নিজস্ব সম্পদ।এর চেয়ে বড় আর কি সম্পদ হতে পারে একজন প্রেমিকের?
মারিয়া আমার কাছে শুধুই আমার স্ত্রি ছিল না।মারিয়া ছিল আমার কাছে অনেক কিছু। একজন প্রেমিকা,একজন দয়ালু বন্ধু সাথি মা অভিভাবক পথ নির্দেশক কিংবা মমতাময়ি মহামানবী কোন মহীষি নারী। মারিয়ার সংস্পর্শে এসে পরশ পাথরের ন্যায় বদলে থাকে আমার জীবন।সকল সুখে মারিয়া আমাকে সুখি করে তুলেছিল।সে এক পরম সূখ।
মারিয়া আমাকে এক আকাশ স্বপ্ন দেখায়েছিল,তার প্রেরণায় আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করি নিজকে জানতে শিকি নতুন করে। এই কথা যখন আমি গর্ব করে বলতে শুরু করি ঠিক তখনই মারিয়া আমাকে নি:সঙ্গ করে চলে গেছে পৃথক পৃথিবীতে।গ্রাপসাপ্ট ক্লোস্টার হাসপাতালে মারিয়ার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা দিবসে প্রায় পাঁচ শতাধিক সূভাঙ্খিকের উপস্হিতে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে সেদিন সন্ধ্যে আমি এই কথাটিই বলার চেষ্টা করেছি।সেদিন আমার মুখে ভাঙ্গা ভাঙ্গা জার্মান শব্দ শুনে অনেকেই কেঁদেছিল। আমি অনেককেই চোখের জল মুচতে দেখেছি।আমার কথা বলা শেষ হবার পর অনেকে এসে আমাকে বাই লাইড বলে সমব্যদনা জানিয়েছিল। সেদিন সকল মানুষকে আমার কাছে মনে হয়েছিল মানুষ সবাই পরস্পরের পরম আত্মিয়।
মারিয়া পর্তুগীজ মেয়ে।হাঁসি খুশি আনন্দময়ি মেয়ে।তাকে আমি কোনদিন রাগ করতে দেখিনি।বিশাল এক হৃদয়ের মেয়ে মানুষ ছিল সেই।আমার জীবনে এমন সুন্দর মনের মানুষ আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।মাত্র এগার বছর বয়সে মারিয়া জার্মানীর ছোট গ্রাম প্রাপ্টসাপ্ট এর ক্লোস্টার হাসপাতালে কাজ নিয়ে চলে আসে।কেন আসে তারও একটি ট্রেজিক গল্প আছে।অনেক সময় রাত জেগে জেগে মারিয়া আমাকে শুনাতো তার জীবনের আধুরা গল্পগুলি।সেই গল্পই শেয়ার করতে বসেছি সুহৃদয় পাঠকদের সাথে।
মারিয়ারা ছিল নয় ভাই বোন।চার ভাই পাঁচ বোন। তার মধ্যে মারিয়ার অবস্হান সাত নাম্বারে।মারিয়া সহ দুবোন ও এক ভাইকে ছোট রেখে মারিয়ার মা এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।সেটাও ছিল মর্মান্তিক একটা দুর্ঘটনা।একদিন মারিয়ার মা কেনাকাটা করে বাস স্টপিজে অপেক্ষা করছিলেন বাসের জন্য।যম বাসটি এসে অপেক্ষামান যাত্রিদের গায়ের উপর উঠিয়ে দিয়েছে।সাথে সাথে মারিয়ার মা সহ প্রাণ হারান তিন জন মাঝ বয়সি মহিলা।মারিয়া আমাকে সে দুর্ঘটনাস্তল দেখায়েছিল একবার।মারিয়ার মায়ের বয়স ছিল তখন সবে মাত্র চল্লিশের কোঠায়।
মারিয়ার বাবা কার্লস তখন জার্মানীর মেসিডে শহরে আমেরিকান একটা কম্পেনীতে কর্মরত ছিলেন।স্ত্রির মৃর্ত্যুর পর তিনি চাকুরি চেড়ে পর্ত্যুগালে স্হায়ীভাবে চলে যান।ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের লালন পালনের দায়িত্ব নেন।পরবর্তিতে তিন আরো চল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে শাদি আর করেননি।আমি বেশ কয়বার জার্মান থেকে বাইবাসে এবং বাই এয়ারে পর্তুগালে বেড়াতে গিয়েছি।মারিয়ার বাবা কার্লসের সাথে বসে বসে গল্প করেছি, গুরে বেড়িয়েছি আশেপাশের গাঁয়ে পাড়া পড়শিদের ঘরে গিয়ে আড্ডা দিয়েছি।তিনি ও খুব চমতকার মনের মানুষ ছিলেন।
মারিয়াদের গ্রামের নামটি ছিল পাসোস। গ্রামটির নাম যেমনি সুন্দর, তেমনি প্রাকৃতিক ভাবে গ্রামটিও ছিল বেশ সুন্দর।আমার ধারুন পছন্দ হয়েছিল গ্রামটি।সেই পাসোস গ্রামটি আজো আমার হৃদয় দর্পনে ভাসে।চারিদিকে সাড়ি সাড়ি সাদা সাদা বড় বড় ইউক্লিপিটাস গাছ দাঁড়িয়ে আছে।আমি কতবার সেই ইউক্লিপিটাস গাছকে ঝড়িয়ে ধরে থেকেছি কিছুক্ষন।কান পেতে গাছগুলির বুকের ব্যথা শুনার অপচেষ্টা করেছি।আমার জানতে ইচ্ছে হলো ইউক্লিপিটাস গাছের চামড়া কেন এমন পেটে পেটে যায়।কিসের এত কষ্ট তাদের বুকে?
মাঝে মধ্যে কিছু সবুজ সতেজ খ্রিষ্টমাস ট্রি ও দেখা যায়। ছোট ছোট রঙবেরঙের গানের পাখিকে দেখছি গাছের শাখায় বসে মনের আনন্দে গান করতে।পথের দুধারে এবং মাঠে সাদা হলুদ নানা রঙের ঘাসফুল ফুটে আছে।পুরো গ্রামটি জুড়ে এলমেল লাল টালির পুরানো টাইপের ছোট বড় বেশ কিছু বাড়ি। পুরানো পাথরের ভাঙ্গা ভাঙ্গা দেয়াল।মাঝেমধ্যে দু একটা আবার আধুনিক টাইপের চুনো কামকরা সফেত দোতলা তিনতলা বাড়িও দাঁড়িয়ে আছে সফেত মেকাপে।মারিয়ার মুখে শুনেছি সেই বাড়িগুলির মালিকরা সবাই নাকি ফ্রান্স কিংবা জার্মান ইংল্যান্ডের মত ইউরোপের ধনি দেশগুলিতে কর্মরত আছে।মারিয়ার তিন ভাইও নাকি ফ্রান্সে কাজ করেন।মারিয়ার বড় এক ভাইয়েরও তিনতলা একটা বাড়ি আছে।সে বাড়িটি নাকি একবার নির্মান করার পর পছন্দ না হওয়াতে আবার ভেঙ্গে পুনরায় নির্মান করা হয়েছে।শুনে আমি খুব হেঁসেছি।
মারিয়াদের পরিবার খুবি স্বচ্ছল মধ্যবিত্তের একটি পরিবার ছিল।প্রচুর জায়গা জমিন ছিল তাদের।মারিয়ার ছোট ভাই ফেরনান্দ একটা বলপেন ফেক্টরিসহ বিপুল সম্পত্তির মালিক।তাকে নাকি আবার এক নি:সন্তান ধনি ধম্পত্তি এডপ্টিয়েট করেছিল। ফেরনান্দ আমাকে নিয়ে গুরতে গিয়ে শুধু হাতের ইশারায় দিগন্তবদি দেখায়ে বলতো টুডোস টুডোস।অর্থ্যাত যতদুর দেখা যায় সব আমাদের।ফেরনান্দ ছিল সুঠাম দেহের অধিকারি।জার্মানে সে তার ফেক্টরির জন্য মেসিন কিনতে আসলে আমাদের বাসায়ও একবার বেড়াতে এসেছিল।মারিয়ার কবর খোঁড়া থেকে পুরো কাজটিই দুজন লোককে নিয়ে সে সম্পর্ন করেছিল।আমি একটু দুরে দাঁড়িয়ে শুধু কাঁদছি।মারিয়ার ভগ্নিপতি ইমানুয়েল আমাকে সান্তনা দিচ্ছিল।শত শত লোক সেদিন হাজির হয়েছিল মারিয়াকে শেষ বিদায় জানাবার জন্য।
মারিয়ার বাবার নিজেরও দুটা বাড়ি এবং একটা গরুর ফার্ম হাউজ আছে।বর্তমানে বন্ধ কোন গরু নেই।তিনি নিজেই সখের বসে মদ তৈয়ার করেন।নিজে পান করেন আত্মিয় সজনকে উপহার দেন, কিন্তু বিক্রি করেন না মোটেও।মারিয়ার সকল ভাই বোনের নিজস্ব বড় বড় বাড়ি আছে।শুধু মারিয়ার নিজের কোন বাড়িঘর ছিলনা।কিন্তু মারিয়ার কাছে ছিল জমানো কিছু টাকা।মারিয়ার বাবা বলেছিল একটা বাড়ি মারিয়ার নামে করে দিবে।আমাদের ইচ্ছে ছিল সেই বাড়িটি আমরা রেনুওয়েল করে নেব।কিন্তু মারিয়ার অনাকাঙ্খিত মৃর্ত্যুর পর আর করা হলো না।আমরা বেড়াতে গেলে মারিয়ার বাবার দোতালা বাড়িতেই উঠতাম।দুতিন সপ্তাহ থেকে আবার জার্মানে ফিরে আসতাম।
মারিয়া কেন এগার বছর বয়সে জার্মানে চলে আসল, সেটা একটু বলি।সেসময় জার্মানের আরেক ছোট গ্রাম গ্রাপ্টসাপ্ট এর ক্লোস্টার নামের হাসপাতাল কতৃপক্ষ একটি বাস নিয়ে নাকি মারিয়াদের পাসোস গ্রামে যায়।তারা গ্রামের মেয়েদেরকে চাকুরি ও থাকা খাওয়ার সুনিশ্চয়তা দিয়ে চল্লিশজন মেয়েকে বাসে তুলে নিয়ে আসে জার্মানে।বাবার ইচ্ছায় পড়শিদের দেখাদেখি সেই সুজোগটা মা-হারা মেয়ে মারিয়াও গ্রহন করে দল বেঁধে চলে আসল।
অঝ পাড়া গাঁয়ের নাবালিকা মেয়েরা জার্মানে এসে কিছুদিন পর সাবালিকা হয়ে কেউ আবার নিজ দেশে ফিরে গেল। কেউবা আবার এখানে জার্মানী ছেলের সাথে বিয়ে সাদী করে এখানেই নিজের সংসার বাঁধল।আবার কেউ কেউ বিয়ে সাদি না করে সিঙ্গেলই এখানে থেকে গেল।মারিয়া নিজেও পর্তুগীজ ছেলেকে বিয়ে করেছিল, কিন্তু দু:খের বিষয় হলো মারিয়ার সেই স্বামি মাত্র ছয় মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল।সেই থেকে আমার পুর্বে মারিয়া আর দ্বিতীয় কোন বয় ফ্রেন্ড বা স্বামী গ্রহন করেনি।
কিভাবে সদা হাঁসি খুশি সুস্হ শরিরের অধিকারি মারিয়া হঠাত করে মাত্র পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে মারা গেল, সেই বিষয়ে বিষদ বর্ণনা করবো ধারা বাহিক ভাবে।সব মানুষকেই মরতে হবে একদিন। এই পৃথিবীতে কত মানুষ কত ভাবে মারা যায়।কিন্তু সব মানুষের মৃর্ত্যুর ভিন্ন ভিন্ন রকমের আর্ট ফরম আছে। কেউ হাসতে হাসতে মরে আবার কেউ কাঁদতে কাঁদতে মরে।কেউ রোগে শোকে মরে কেউ আবার ক্ষুদা তৃষ্ণায় মরে, আবার কেউ নেশা করে মরে।যুদ্ধ গৃহ যুদ্ধে মরে।ধন সম্পদ নিয়ে মারা মারি করে মরে।বিরহ বিচ্ছেদে মরে, আত্মহত্যা করে মরে, আবার প্রতিদিন প্রতিক্ষন সড়ক দুর্ঘটনায় মরে কত অগনিত মানুষ।কে তার হিসেব রাখে?মারিয়া মরেছিল হাঁসতে হাঁসতে।
এই পৃথিবীতে মানুষের মুখের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হলেও হাসি কান্নার ভাষা অভিন্ন।তবু মানুষ মানুষের ভাষা বুঝেনা, কি করে বুঝবে বুকের ব্যদনা?যার যায় যে হারায়, সেই অনুভব করে হারানোর ব্যদনা কত কঠিন ও নির্মম।মানুষ সাধারণত নিজের পোষা কোন পশু পাখি মারা গেলেও ভিশন কষ্ট পায়। আবার অনেক পশু পাখিকেও দেখেছি সঙ্গি সাথি মারা যাবার পর মরা দেহের পাশে বসে কাঁদতে।তিন চারদিন বা অধিক সময় কাল ধরে খানাপিনা চেড়ে দিয়ে শোকে মুহমান হয়ে যেতে।
আর আমি তো একজন রক্ত মাংশের সাধারণ একজন মানুষ।দশ বছর আগে আমরা দাম্পত্য জীবন শুরু করছি।মারিয়া হঠাত মৃর্ত্যুর পর যেভাবে আশমান ভাঙ্গা বর্জ্য ভেঙে পড়েছিল আমার মাথার উপর।আমি যে কত কষ্ট করে সহ্য করে আজ অবধি বেঁচে আছি।কতদিন যে আমি ঠিকমত খেতে পারিনি, গুমাতে পারিনি।বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছিল আমার পক্ষে।মারিয়াকে হারিয়ে আজো আমি ভীশন অসহায় ও দু:খবোধ করি।
মানুষের যেমনি চেহারার কোন সমিল নেই, তেমনি মৃর্ত্যুরও কোন সমিল নেই।তার উপর আবার কোন মৃর্ত্যু যদি অস্বাভাবিক কিংবা রহস্য জনক হয়, তখন সেটা হয় ইতহাস।আবার যখন সন্ধেহের তীর যায় প্রিয় জনের দিকে তখন সেটা হয় অমর ইতিহাস।মারিয়ার মৃর্ত্যুটাও একটা অমর ইতিহাস।প্রেম ভালোবাসা কিংবা দু:সময়ের দু:সহ ইতিহাস।কারণ মারিয়ার হঠাত মৃর্ত্যুর পর সন্ধেহের তীর তীব্রভাবে ছুঠে আসে আমার দিকে।কারণ আমিই তো মারিয়ার সেই হতভাগা স্বামি।
(২,)
আমার সেই ফেলে আসা স্বপ্নভঙ্গের দু:সময়ের দিনগুলি।
আমি বাংলাদেশি একজন তরুন।বয়স তখন তিরিশের মধ্যে।এবার হয়তো অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। এই বাংলাদেশটা আবার কোথায়?এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার পরে হয়তো আবার প্রশ্ন জাগবে এতদুর থেকে আমি কেন জার্মানে আসলাম?মারিয়া নামে পর্তুগীজ একজন মহিলার সাথেই বা আমার পরিচয়টা হলো কি ভাবে?তার সাথে আমার প্রেম পরিনয় এ সব কিভাবে হলো? আবার হঠাত করে মরলোই বা কি করে?ইত্যাদি।সব প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমি বসছি।ধর্য্য ধর বন্ধু।বলবো আমি সেদিনকার সব গল্প।
বাংলাদেশ হলো জাতি সংগের সদশ্যভূক্ত ১৯৫টি দেশের মধ্যে সাউথ এশিয়ার ছোট একটি স্বাধিন রাষ্ট্র।ছোট রাষ্ট্র হলেও জনসংখ্যার দিক দিয়ে অস্টম বৃহত রাষ্ট্র।বাংলাদেশের দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর। পূর্বে মায়ানমার। বাদবাকি উত্তর পশ্চিম সিমান্তের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভারতের সিমান্ত।একসময় বৃটিশ ইন্ডিয়ার অন্তর্ভূক্ত থাকলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান নামে দুটা অদ্ভূত রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।সেটা ১৯৪৭ এর ১৪-১৫ই আগষ্টের দিকে।সেই অদ্ভূত রাষ্ট্র পাকিস্তানের দুটা ভাগের একটা ভাগ হলো ততকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা আজকের বাংলাদেশ।বাংলাদেশের ব্যবধান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রায় দুহাজার কিলোমিটার।১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এক রক্তক্ষয়ি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে, তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, চুড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় নতুন একটি রাষ্ট্র যার নাম বাংলাদেশ।আমার জন্ম তদানিন্তন অখন্ড পুর্ব পাকিস্তানে হলেও আমি গর্ব করে বলি আমি বাংলাদেশি।
এবার আসি কেন আমি সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে ইউরোপ কিংবা এই সুন্দর জার্মানে আসলাম?সেটা একটু বলি।সেই এক বিরাট কাহিনী।মুলত রাজনৈতিক কারণেই আমার জার্মানে আসা।জন্মের পরই আমি দেখেছি স্বদেশ আমার স্বাধীনতার প্রশ্নে উত্থাল টালমাটাল।আন্দোলন সংগ্রাম যুদ্ধ গৃহযুদ্ধ চলছে স্বদেশে আমার।প্রায় প্রতিদিন শুনি গোলাগুলির বিকট শব্দ। আমি জন্মের পরই দেখি তাজা লাশ আর লাশ।জন্মের পরই আমি দেখি শিয়াল শকুন কুকুরে টেনেচিঁড়ে খাচ্ছে মানুষের লাশ। আমি দেখেছি লাশের স্তুপ আর স্তুপ যেখানে সেখানে পড়ে আছে আবাল বৃদ্ধ বনিতা নারী পুরুষ আর শিশুর লাশ।আমি নারীর সম্ভ্রমহানির দৃশ্য দেখে শিহরিত হতাম। আমি দেখেছি নিরপরাধ মানুষের গন কবর।আমি রক্তে ধোওয়া বাংলাদেশকে দেখেছি।আমি বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছি।স্বাধিনতার পর আবার দুর্ভিক্ষ দেখেছি।চোখের সামনে কেমন করে অনাহারি মানুষ শিশু থেকে বুড়ো না খেয়ে ধরপড়ায়ে মরছে। ঊহু! কি ভিবতশ দৃশ্য।আমি বাংলার ৭০-৭১ দেখেছি।সত্তর সালে ভয়ানক ঘুর্ণিঝর গোর্কির আঘাতে প্রাণ হারালো দশ লক্ষাধিক অসহায় মানুষ।আর একাত্তরে স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রাণ হারালো তিরিশ লক্ষ নিরীহ নিরপরাধি বাংলার মানুষ।বড় নিষ্ঠুর বৈচিত্র এই পৃথিবী।হত্যাযজ্ঞের অস্হির পরিস্হিতিতেই কেটেছে আমার নি:ষ্পাপ শৈশব।
রাজনীতির কারণে আজ আমাকে স্বদেশের মায়া মমতা,মা-বাবা ভাই বোন বন্ধু বান্দব সকলের স্নেহ ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে এই অজানা অচেনা দেশে উদ্ভাস্তু হতে হয়েছে।কত যে কষ্টের এই উদ্ভাস্তু জীবন।কত যে ব্যদনার এই পর দেশে বসবাস। দু:সহ যন্ত্রনায় কত রাত যে আমি অঝরে কেঁদেছি প্রিয় মাতৃভূমির জন্য।কি সুন্দর এই জার্মান দেশ কত যে ভালো এদেশের মানুষ।এত বছর ধরে জার্মানে থাকতেছি তবু আজো যেন এই জার্মান আমার কাছে অজানা অচেনা একটি দেশ।
শৈশব থেকেই জার্মানী আমার কাছে ছিল স্বপ্নের কোন স্বর্ঘভূমি।আমি শৈশব থেকেই জার্মানের গল্প শুনতাম।হ্যামিলনের বাঁশিওলার গল্প, ডা: হ্যানিমানের গল্প, হিটলারের গল্প, আলবার্ট আইনস্টাইনের গল্প।গোথে শিলার গল্প পড়েছি।বড় হয়ে তো আমি মাল্টি গাইডে কিংবা ইতিহাসে জার্মান সম্পর্কে পড়তে শুরু করি।জার্মানী ভাষা শিখে জানার চেষ্টা করি।জার্মান একটি ধনি দেশ,জার্মানীরা ভালো মানুষ।তারা সবাই শতভাগ শিক্ষিত।তারা এতই ধনি যে জনপ্রতি প্রত্যেক জার্মানী নাগরিকের দুটা অটো কার আছে ইত্যাদি।মনে মনে আমি স্বপ্ন দেখি আর সংকল্প করি আমি যেমন করে হউক একদিন জার্মানে যাব যাবই।
ঠিক একদিন আমার স্বপ্নটা বাস্তবে রুপ পেল, কয়জন সুহৃদ মানুষের সহযোগিতায় সত্যিই আমার জার্মানে আসা হলো।সেটা ১৯৯১ সালের প্রথম দিকের কথা।যুগোস্লাভিকিয়ার জাগ্রেব শহর থেকে বাই অটো দিয়ে অস্ট্রিয়া মুনসেন হয়ে স্মলেনবার্গে এসে এক আত্মিয়ের বাসায় উঠলাম।স্মলেনবার্গ জার্মানের নর্থরাইন প্রদেশের হোক জাওয়ার ল্যান্ড জেলার একটি ছোট শহর।হাজার পাহাড়ের শহর নামে খ্যাত এই শহরটি।যে কোন এক জায়গায় দাঁড়ালে পানোরমায় সতেজ সবুজের ছোট ছোট পাহাড়ই দেখা যায়।আবার রোট হার অর্থ্যাত লাল চুলওয়ালি পাহাড় নামে বিখ্যাত এবং সুদীর্ঘ একটি পাহাড়ও আ্ছে। রোট হার নাম হলেও সবুজ গাছ গাছালিতে ভরা এই পাহাড়।লাল বলতে এখানে কিছু নেই।অনেক সময় খবরে আসে এই পাহাড়ে পর্যটকরা হাঁটতে গিয়ে হারিয়ে যান।পরে কতৃপক্ষ হেলিকপ্টরের সাহায্যে খুঁঝে বাহির করে আনেন। আমি বহুবার বাই সাইকেলে গুরতে গেছি এই পাহাড়ে।সত্যিই অনিন্দ সুন্দর মনোরম পরিবেশের একটি পাহাড়।
তখন শীতকাল। প্রচন্ড ঠান্ডা, প্রচুর সূভ্র বরফে ঢেকে আছে পুরোটা জার্মানী। ইস্তানবুলে যুগোস্লাভিয়ায় অস্ট্রিয়ায়ও বরফ দেখেছি। কিন্তু সেদিকে জার্মানের মত এত বেশি না।অসম্ভব সুন্দর জার্মানী নামে সেন্টার ইউরোপের এই দেশটা। বাড়ি ঘর রাস্তাঘাট সবি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিপাটি সাজানো গোছানো।উপরে নীল সাদা পরিষ্কার শান্ত আকাশ, নীচে কালিমা মুক্ত পুত প্রবিত্র সূভ্র বসুন্ধরা।যে দিকে তাকাই সেই দিকটাই মনে হয় যেন শিল্পির তুলির আঁচরে আঁকা কোন দৃষ্টি নন্দিত ছবির ক্যানভাস।জার্মানে এসে আমি এক অজানা আনন্দে অভিভূত ও পুলকিত হতে থাকি।মনে মনে গর্ববোধ এবং অনিয়ন্ত্রিত স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। নিজের অনাগত সুন্দর ভবিষ্যতের এবং আগামি একটি শান্তিময় সুন্দর বিশ্বের।
সত্যিই আমার সেই অনিয়ন্ত্রিত স্বপ্নের পরিধি ছিল বিশাল বহু দুর দুর পর্যন্ত বিস্তৃত।সেদিন স্বপ্ন দেখে দেখে আমি ভাবতাম আর জার্মানের সাথে স্বদেশকে মিলায়ে দেখতাম।। ও মাই গড !আমাদের তৃতীয় বিশ্বের মানুষের তুলনায়, বিশেষ করে আমার দেশের তুলনায়, জার্মানীরা কত উন্নত।কত কত বেশি এদের বিত্তবৈভব।কত উন্নত এদের চালচলন কথাবার্তা।সেই তুলনায় আমরা তো কিছুই না।হিসেব করে দেখি এদের তুলনায় আমরা কম করে হলেও শত বছর পিছে পড়ে আছি।
ভাবতাম জার্মানীরা এত উন্নত স্কানডেভিয়ার মানুষরা নাকি আরো কত উন্নত হবে। ডেনমার্কের সাদা চামড়ার মানুষ আমি বাংলাদেশে অনেক দেখেছি। তারা সেখানে এনজিওর মাধ্যমে নানা উন্নয়ন মুলক কাজে সহযোগিতা করার জন্য গিয়ে্ছিল।আমরা রেড মানকি বলে তাদেরকে কতই না চেঁতায়েছি।আর আজ আমি সেই সাদা মানুষের দেশে অভিবাসি।নিশ্চয় তারা ভীনগ্রহের মানুষের বংশধর হবে।বই পুস্তোকে পড়েছি সাদা মানুষদেরকে নাকি আফ্রিকান মানুষরা প্রথম দেখে ঈশ্বর বলে মনে করতো ।আমি তো ধরেই নিয়েছিলাম নিশ্চয় আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের গরিব মানুষকে এই পৃথিবী দান করে দিয়ে ইউরোপিয়ানরা একদিন চলে যাবে চাঁদ কিংবা মঙ্গল গ্রহের মত কোন অজানা ডায়মন্ড কিংবা প্লাটিনাম সমুদ্ধ গ্রহে।
ধীরে ধীরে আমার সেই ধারণা আশা আখাঙ্খা স্বপ্ন সবি মিথ্যে প্রমাণিত হতে লাগলো।ভীন গ্রহে বসবাসের জন্য যাবার মত সামর্থ্য এখনো ইউরোপ বাসী কেন পৃথিবীর কোন জাতির পক্ষেই সম্ভব হয়ে উঠেনি বোধ হয় কোনদিন হবেও না।বরঞ্চ পৃথিবীর উন্নত জাতি গুলি এখন পশ্চাদপদি হচ্ছে দিন দিন।আদিম উল্যাসে এখনো এরাও আমাদের মত নগ্ন উন্মাদে মত্ত।সভ্যতা এখানেও এখনো আমাদের ওখানের মত আধুনিক বর্বরতার স্বরুপ।মানুষ এখনো এই পৃথিবীটাই জয় করতে পারেনি ভীন গ্রহ জয় করিবে কিশে?
জার্মানে এসে দুসপ্তাহ আমার সেই আত্মিয়ের বাসায় থাকার পরে তিনি আমাকে কাসেল শহরে আরেক বাংলাদেশির দায়িত্বে তার বাসায় রেখে আসেন।বেশ বড়সদ সুন্দর একটা প্রাইভেট বাড়ি ভদ্রলোক একাই থাকতেন।সেই বাংলাদেশির একান্ত সহযোগিতায় আমি কাসেল শহরে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থি হই।সেখান থেকে কতৃপক্ষ ট্রেনের টিকেট ধরিয়ে দিয়ে ফ্রাঙ্কপোর্ট সোহেলবাকে পাঠিয়ে দেয়।আমি সেখানে উদ্ভাস্তু সিবিরে গিয়ে রেজেস্ট্রি করি।সেখানে এক সপ্তাহ থাকার পর তারা আমাকে উছিনগান নামে আরেকটি ছোট গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে তিন মাস পরে প্রায় ছয়শত কি:মি: দুরে পুর্ব জার্মানীর আইজেন হুটেট স্টাড নামে একটি শহরে আমাকে পাঠিয়ে দেয়।সেখানে রাশিয়ান আর্মির পরিত্যক্ত বিশাল বড় বহুতলা বিশিষ্ট একটি ব্যরাকে আমাকে রাখা হয়।দুদিকে বড় বড় দুটা বিল্ডিং মধ্যখানে পাকা খেলার মাঠ।একদিকে বড় একটা কিসিং।সেখানেই বসেই খাওয়া যেত শতাধিক মানুষ।
অনেক দেশের লোক জন সেখানে কিন্তু স্বদেশের কোন লোকজনকে পেলাম না।ভীষন একা ফিল করছি। কারো সাথে কথাবার্তা বলতে পারছিনা।বেশির ভাগ লোকই রুমানিয়ার যুগোস্লাভিয়ার এবং রাশিয়ান লোক। ইংরেজি মোটেই জানেনা।হঠাত করে একদিন নেপালের দুটা ছেলে আসল। তারা ভাঙা ভাঙা হিন্দি বলতে পারে। তাদের সাথে জমে উঠেছিল বেশ।আরো কিছুদিন পরে একজন দুজন করে এগার জন বাঙ্গালী এস উঠলো।তারা আসার পরে ভিষন্নতা এবং দুরচিন্তা সব কেটে গেল।খুব হাঁসি তামাসা এবং কার্ড খেলে বেশ আনন্দের মধ্যেই কাটছিল বাঁকি দিন গুলি।প্রায় তিনমাস হয়ে গেল, দোভাষির কারণে আমাদের ইন্টারভিউ হচ্ছিল না।একদিন আমি নিজেই গিয়ে ইংরেজিতে আমার ইন্টারভিউ দিয়ে ফেললাম।আমাকে সবার আগে ট্রান্সপার করে পাঠিয়ে দিবে, সেকারণে আমার স্বদেশি ভাইয়েরা সবাই কান্নাকাটি জুড়ে দিল।সবার ইচ্ছা একসাথে এক হাইমে যাবার।পরে দলবেঁধে আমরা অফিসে গিয়ে বললাম।তারা বলল বারজনকে তো এক হাইমে দেওয়া যাবে না।দু ভাগে যেতে হবে।কিছুদিন পর ভারতিয় বাঙ্গালী একজন দোভাষি এসে সবার ইন্টারভিউ নিয়ে কয়দিন পর দুভাগে আমাদেরকে পাঠিয়ে দিল।প্রথম ভাগে আমাদের ছয়জনকে স্হায়িভাবে পাঠালো টেলটবে।টেলটব ব্রান্ডেনবুর্গের একটি ছোট শহর।বার্লিনের পাশেই।এখানে আসার পর দুমাসের মধ্যে নাতসির ভয়ে দুজন দেশেই ফিরে চলে গেল।
সেখানে সাততলা একটি বড় দালানে আমাদের থাকার জায়গা করা হয়।প্রতি কামড়ায় দুজন করে পরে অবশ্য ডবলবেড বসায়ে চারজন করে থাকার ব্যবস্হা করা হয়েছিল।প্রথমদিন তো সেখানের গনমান্য ব্যক্তিবর্গ গির্জার পাস্তর এসে ফুলের সূভেচ্ছা জানিয়ে আমাদেরকে বরন করে নিয়েছিল।পরে প্রতিদিন নাতসির ভয়ে আতঙ্কের মধ্যে কাটতো আমাদের দিন। আমরা আত্রিশ দেশের মানুষ ছিলাম সেই হাইমে।দুতিনটা পরিবার ব্যতীত সবাই সিঙ্গেল ছিল।একরাতে নিউ নাতসিরা তো হাইমে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিল।মাঝেমধ্যে নাতসিরা মিছিল নিয়ে হাইমের সামনে এসে শ্লোগান দিত আউছ ল্যান্ডার রাউছ আউছ ল্যান্ডর রাউছ বলে।তখন গনমান্য ব্যক্তিরা এসে আমাদেরকে সেইফে রাখার চেষ্টা করতো।পরে ফায়ার বিগ্রেড এবং পুলিশ এসে খেপা নাতসিদের তাড়িয়ে দিত।পুলিশ স্টেষন এবং ফায়ার বিগ্রেডের অফিস আমাদের হাইম থেকে অদুরেই ছিল।
আতঙ্কের মধ্যেই টেলটবে কাটছিল আমার দিনগুলি।বেশি দুরে যেতে পারিনা আমরা।সাদা চামড়ার যারা তারা তো প্রতিদিন চলে যায় বার্লিনে।আমাদের হাইমের সামনে থেকে প্রতিদিন তিনটা বাস তিন দিক দিয়ে বার্লিনে যায়।অতচ বার্লিনে যাবার কারো কোন পার্মিসান নাই।তবু সবাই যায়। আমার দেশি তিনজনের আত্মিয় আছে বার্লিনে, তারাও যেয়ে আত্মিয়ের বাসায় থাকে।আমি একা হাইমে থাকি।অন্যান্য দেশি লোকজনের সাথে কথাবার্তা খেলাধুলা টেলিভিসন দেখা হয়।ইতি মধ্যে বেশ কয়জনের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে।
এক বিকেলে প্রায় সন্ধ্যা হয় হয় এমন সময়ে আরমানিস এক বন্ধুর সাথে গুরতে গেলাম। আমাদের হাইমের সামনেই।হঠাত করে পাঁচটা নাতসি যুবক এসে আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা শুরু করলো। আমার সহপাটি আরমানিস লোকি দৌড়ে গিয়ে হাইমে উঠলো।কিন্তু আমি পালাতে পারিনি। তারা আমাকে ধরে মারতে শুরু করলো।পরে আমার চোখে গ্যাস স্প্রে করে তারা চলে গেল।চোখের যন্ত্রনায় আমি অস্হির হয়ে কোন মতে হাইমে এসে ঠান্ডা পানি ওভিজা তোয়ালে দিয়ে শুয়ে গেলাম।সকালে উঠে আমি এক চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা।এক চোখে মোটামুটি দেখি।দুচোখই পুলে উঠেছে। আমার এই অবস্হা দেখে হাইম লাইটার সাথে সাথে তার গাঁড়ি করে পোট্সডাম বার্গম্যান ক্লিণিকে পাঠিয়ে দেয়।সে হাসপাতালে একমাস থাকার পর আমাকে রিলেজ করে।তারপর আমাদের হাইমের সামনের একটি হাসপাতাল ছিল সেখানে নিয়মিত সিকিতসা করিয়েছি।আজকে প্রায় পঁচিশ বছর হয়ে গেল এখনো নিয়মিত সিকিতসা করিয়ে যাইতেছি।আমার ডান চোখে এখনো ষাট পার্সেন্ট কম দেখি।
(৩)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন